অনলাইন ডেস্ক:
বিদায়ী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির সফলতা তুলে ধরে বলেছেন, “আমরা সংকটের মুখোমুখি হয়ে, পরীক্ষার সময় অতিবাহিত করেছি। তবে আজ আমরা যেখানে ছিলাম, তার থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছি।” গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ভাষণে বাইডেন দাবি করেন, “আমরা এমন একটি আমেরিকা রেখে যাচ্ছি, যার বন্ধু সংখ্যা বেড়েছে এবং শক্তিশালী জোট রয়েছে।”
বাইডেন আরও যোগ করেন, “আমরা এখন একটি নতুন যুগের সূচনা করেছি, যেখানে শীতলযুদ্ধ-পরবর্তী যুগের অবসান হয়েছে। সামনের বছরগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে, তবে স্পষ্ট যে, আমার প্রশাসন পরবর্তী প্রশাসনকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখে যাচ্ছে।” ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন, এবং এটাই বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে শেষ ভাষণ ছিল।
বাইডেন তার প্রশাসনের বিদেশনীতি সম্পর্কে আরও বলেন, “আমরা এখন এমন একটি আমেরিকা রেখে যাচ্ছি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, দেশগুলোকে একত্রিত করছে এবং নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।” বাইডেন দাবি করেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত, অর্থনীতি এবং চীনের বিপরীতে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহায়তা এবং ন্যাটো সদস্যদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে বাইডেনের প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাশিয়ার আক্রমণের পর বাইডেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেনের জন্য সমর্থন জোগাড় করতে সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের সমর্থনে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছি, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সমঝোতার দিকে পরিচালিত হয়েছে।”
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিস্থিতি নিয়েও বাইডেন তার বক্তব্যে বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন আমি বুঝেছিলাম যে, কয়েক হাজার সেনাসদস্য আফগানিস্তানে রাখা আর লাভজনক নয়। আমি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনিনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি হচ্ছি সেই প্রেসিডেন্ট, যিনি আফগানিস্তানে কোনো যুদ্ধ রেখে যাচ্ছেন না।”
বাইডেন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “গাজায় অনেক নিরপরাধ মানুষ মারা গেছে এবং পরিস্থিতি গুরুতর, তবে ফিলিস্তিনি জনগণের শান্তি প্রাপ্য।” তবে বাইডেন গাজায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন এবং জানান, তিনি শিগগিরই এই বিষয়ে আলোচনায় বসবেন।
বাইডেনের ভাষণ দেওয়ার সময় বাইডেনের বিরুদ্ধে বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধাপরাধী’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা বিদেশে নৃশংসতাকে সমর্থন করে।
বাইডেন ভাষণে চীন ও রাশিয়ার মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে তার প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বাইডেনের বিদায়ী ভাষণ তাঁর প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির সফলতা এবং মার্কিন শক্তির পুনর্গঠনের দিকেই ইঙ্গিত করে, যা পরবর্তী প্রশাসনকে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।











