ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অংশ করে দেখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশিত: 10 December 2025, 12:31 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মানবাধিকারকে শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য মর্যাদার সাথে, বৈষম্যহীন পরিবেশে নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

বাংলাদেশে মানবাধিকার চর্চায় বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ বছরের মানবাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের বিজয়ের পর শুরু হওয়া পরিবর্তন আজও নানাভাবে প্রভাব ফেলছে রাষ্ট্রীয় নীতিতে।

ড. ইউনূস বলেন, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র ও জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার এখন আরও সুদৃঢ়। এ বছর মানবাধিকার দিবস বিশ্বব্যাপী ‘মানবাধিকার, আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজের ভিত্তি আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এই অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীকে দোষী সাব্যস্ত করার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত ৯টি মূল আন্তর্জাতিক চুক্তির সবগুলোতে যোগ দেওয়া দেশগুলোর একটি। সর্বশেষ গুম প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে এই অঙ্গীকার আরও স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সব মূল কনভেনশনে সই করায় শ্রমিক অধিকার রক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সংঘাত, মানবিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন মানবাধিকার রক্ষার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসব বৈশ্বিক ইস্যু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

বাণীতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও মিয়ানমার এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত না নেওয়াকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। ড. ইউনূস বলেন, দ্রুততম সময়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনেও তিনি একই অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গাজাসহ বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সোচ্চার। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ন্যায্য স্বাধীনতার সংগ্রামে ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে থাকবে দেশটি।

মন্তব্য করুন