ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

মালয়েশিয়ার শর্ত শিথিলে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা

প্রকাশিত: 19 November 2025, 7:27 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নতুন করে আরোপ করা কঠোর শর্তগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি শর্ত বাংলাদেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এগুলো মানতে গেলে শ্রমবাজার অল্প কয়েকটি বড় রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ চায়, শ্রমবাজার সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত থাকুক, সুযোগ বাড়ুক এবং কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুলভ হোক।

 

বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়া সম্প্রতি যে ১০টি বাধ্যতামূলক মানদণ্ড দিয়েছে, তার কয়েকটির ব্যাপারে বাংলাদেশ শক্ত আপত্তি জানিয়ে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে।

 

উপদেষ্টা বলেন, বেশিরভাগ শর্ত বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব নয়। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে কথা বলেও সরকার একই মত পেয়েছে। তার ভাষায়, “এসব শর্ত পূরণ করতে গেলে সিন্ডিকেট হওয়ার ঝুঁকি আছে। অল্প কয়েকটি বড় এজেন্সির হাতে সুযোগ চলে যাবে, যা আমরা চাই না।” তিনি জানান, মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ শর্তগুলো পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং আলোচনাও চলছে।

 

মালয়েশিয়ার নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী এজেন্সিগুলোর কমপক্ষে পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। বিগত পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, অন্তত তিনটি দেশে কর্মী প্রেরণের রেকর্ড, বড় পরিসরের স্থায়ী অফিস, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অপরাধ বা মানবপাচারের রেকর্ড না থাকার প্রমাণও আবশ্যক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার দাবি, এসব শর্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, তবে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বড় অংশ মনে করছে, এত কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই পক্ষে সম্ভব নয়।

 

অনেক মালিক মনে করছেন, নতুন করে এমন নিয়ম চালু হলে শ্রমবাজার আবারও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে এবং অভিবাসন ব্যয় বাড়তে পারে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বাজার বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে পুনরায় চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। কিন্তু সাম্প্রতিক কঠোরতার ফলে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল বলেন, শ্রমবাজারকে সর্বাধিক উন্মুক্ত রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, শর্ত শিথিল না করা পর্যন্ত এবং সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আইএলও ও সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় চালু হওয়া ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মকে তিনি স্বচ্ছতা বাড়ানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

এই প্ল্যাটফর্ম অভিবাসী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিএমইটি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে এক জায়গায় যুক্ত করবে। এর ফলে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা কমবে এবং সেবাগ্রহণ আরও সহজ হবে। উপদেষ্টা জানান, আগে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে সেবার জন্য ফি দিতে হতো, নতুন প্ল্যাটফর্মে সেই সেবা পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন দেইপাক এলমার বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূইঁয়া।

মন্তব্য করুন