মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে গ্যাস খাতে অপচয় রোধের পথে বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে গ্যাস উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও বিপণনে মিটারিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, যা অপচয় ও চুরি কমাতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে গ্যাস ব্যবস্থায় সিস্টেম লসের প্রকৃত চিত্রও জানা যাবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দুই বছর পর গ্যাস কেনাবেচায় মিটারিং পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছে এবং আনুপাতিক হারে বিল করার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে।

গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) দীর্ঘদিন ধরে মিটারিং পদ্ধতির বিরোধিতা করলেও, পেট্রোবাংলা দুই বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আগে, গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএল গ্যাস পরিমাপ করলেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে সরবরাহের সময় পরিমাপের ব্যবস্থা ছিল না। তবে নতুন ব্যবস্থায় সব স্তরে মিটারিং পদ্ধতি চালু হবে, যার মাধ্যমে গ্যাসের পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলার সূত্রে জানা গেছে, জিটিসিএল অতীতে সিস্টেম লস অন্য কোম্পানির ওপর চাপিয়ে মুনাফা করেছে এবং এ মুনাফা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছর ২ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রফিট বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু মিটারিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় গ্যাস উৎপাদন কোম্পানি, আইওসি এবং আরএলএনজি উৎস থেকে ২০টি পয়েন্টে মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস গ্রহণ করা হবে এবং ৬৪টি অফ-ট্রান্সমিশন পয়েন্টের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। পেট্রোবাংলা এই ব্যবস্থার পরিবীক্ষণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

এছাড়া, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর সিস্টেম লস কমানোর জন্য অবৈধ সংযোগ, লিকেজ এবং গ্যাস চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিস্টেম লস কমানোর জন্য যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে, সিস্টেম লসের প্রকৃত পরিমাণ পরিমাপ করে এবং কোম্পানিগুলোকে জোনভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিটারিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অপচয় কমবে এবং গ্যাস ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। ২০২৩ সালের প্রথম চার মাসের সিস্টেম লস পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির সিস্টেম লস ছিল ১.৩৪% থেকে ১০.৭৮% এর মধ্যে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২২ সালে ঘোষণা করেছিল যে, গ্যাস সিস্টেম লস ২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না এবং এটি কমিয়ে আনার জন্য কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন মিটারিং ব্যবস্থা চালু হলে গ্যাস ব্যবস্থায় অপচয় কমবে, চুরি রোধ হবে এবং সিস্টেম লসের প্রকৃত দায় সঠিকভাবে নিরূপণ করা যাবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।