অনলাইন ডেস্ক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মজিদপুর এলাকার চা দোকানি ইউনূস বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ৩২৩তম স্থান অর্জন করে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছেন। রিফাত এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তার মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করবেন।
রিফাত বলেন, “আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ ও বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ আজ আমি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়েছি। আমাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, তাই উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বা গণিতের প্রাইভেট পড়া সম্ভব হয়নি। তবে ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহায়তায় আমি আজ এই সফলতা অর্জন করেছি।”
রিফাতের বাবা ইউনূস বেপারী জানান, “আমার ছেলে যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তার আমাকে কাজ করতে নিষেধ করেন, কিন্তু সংসার চালাতে আমাকে কাজ করতেই হত। তখন থেকেই ভাবি, আমার ছেলে যেন ডাক্তার হয়। আজ সে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে, এজন্য যত কষ্টই হোক, তাকে ডাক্তার বানাতে হবে, যাতে সে মানুষের সেবা করতে পারে।”
রিফাতের মা ঝর্না বেগম বলেন, “রিফাত যখন ছোট ছিল, তখন তার বাবার কোমড়ের অপারেশন হয়। ডাক্তার তাকে কাজ করতে নিষেধ করেন, তবে সংসার চালাতে তাকে কাজ করতেই হয়। তখন থেকেই রিফাতের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল।” তিনি বলেন, “কষ্ট হলেও রিফাতের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আমার ভাইয়েরা সহযোগিতা করবেন। আমরা চাই, রিফাত ডাক্তার হয়ে যেন অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে।”
রিফাতের সাফল্যে আনন্দিত এলাকার বাসিন্দারা, সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকরা। শুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. ইসহাক মোল্লা বলেন, “আমাদের স্কুল থেকে আরও কয়েকজন ডাক্তার হয়েছেন, কিন্তু রিফাতের সফলতা বিশেষ। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া একটি বড় অর্জন।” তিনি আরও বলেন, “রিফাতের একটি বিশেষ গুণ ছিল, সে সবসময় শিক্ষকদের থেকে পড়াশোনা আদায় করে নিত। বর্তমান যুগে যেখানে পড়াশোনার প্রতি অনীহা দেখা যায়, সেখানে রিফাতের মধ্যে সেই আগ্রহ ছিল।”
এলাকার ডাক্তার সিজান শেখ বলেন, “মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় রিফাত ৩২৩তম স্থান পেয়েছে। এটি আমাদের গ্রামের জন্য এক বিরাট অর্জন।”
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার রিফাতের সাফল্যে খুশি হয়ে জানান, “এই পরিবারটিকে অভিনন্দন জানাই। রিফাতকে ভর্তি হওয়া, বই কেনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পাশে আছি। তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করছি।”











