অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী চুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ জুন) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুই নেতা। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে এতে সই করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি মাত্রই এতে সই করেছি।”
ইরানের পক্ষ থেকেও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, “দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এর বাস্তবায়ন যাচাই করার সময় এসেছে।”
সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমাতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল কার্যকরে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় ধরে আলোচনা চলবে।
এই সমঝোতার লক্ষ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটানো। ওই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে সরাসরি চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেই তা সম্পন্ন হয়। ইরান জানিয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাক্ষরের পর আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। তবে দুই দেশের আলোচক দল পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।











