অনলাইন ডেস্ক:
যুবসমাজের জন্য সার্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব করেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। তারা মনে করেন, এমন একটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যুবকদের দেশের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারে। এই প্রস্তাবটি উঠে আসে মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংক্রান্ত অধিবেশনে।
প্রধান উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসকরা সিভিল মিলিটারি কোঅপারেশন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা জানতে চান, কীভাবে সিভিল প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা যেতে পারে। সিভিল প্রশাসনের অফিসারদের ডিভিশন পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, যাতে সিভিল প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া আরো উন্নত হয়।
অধিবেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উঠে আসে – যুবসমাজের জন্য সার্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা। জেলা প্রশাসকরা বলেন, যদি যুবকরা এই প্রশিক্ষণ পায়, তবে তারা দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের দেশের জন্য কার্যকরী অবদান রাখতে সহায়তা করবে।
এছাড়া, ডিসিরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করেছেন, বিশেষত রিমোট ও দুর্গম এলাকাগুলিতে, যেখানে অতিরিক্ত বাহিনী প্রয়োজন। তারা জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযানে সহায়তার জন্য আরও প্রস্তুতি নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কুকি চিন ন্যাশনাল ফন্টের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকটি জেলার পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার কারণে সেখানকার যুবসমাজ কাজ হারাচ্ছে এবং সন্ত্রাসের দিকে ঝুঁকছে। ডিসিরা এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন।
আব্দুল হাফিজ আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রায় ১,৪০০ অস্ত্র এবং আড়াই লাখ গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, যা এখনও উদ্ধার হয়নি। তিনি ডিসিদের সতর্ক করেছেন যে, এই অস্ত্রগুলি সন্ত্রাসীদের হাতে পড়তে পারে এবং তাদের তা উদ্ধার করতে সহায়তা করতে হবে।
রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা ও কৃষি উপকরণ সময়মতো সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের তিনটি প্রত্যাশা সম্পর্কেও তিনি বলেন: প্রথমত, নিরাপদে চলাফেরা এবং শান্তিতে ঘুমানো, দ্বিতীয়ত, দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, এবং তৃতীয়ত, সরকারের সেবা ঝামেলা ছাড়া পাওয়া।
কুকি চিন ন্যাশনাল ফন্টের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান চলমান রয়েছে। এ অভিযানে ৭ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত। অভিযান চলবে যতদিন না এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি নিশ্চিহ্ন হয়।











