নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসার পরিবার পল্লবী থানার এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত। তাঁর বাবা বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
এরপর ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
রায়ে আরও বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এই দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারিক রায় ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পর মামলার ডেথ রেফারেন্সের যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে দুই আসামিও হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। এখন তাঁদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে হাইকোর্টে।











