নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ হাজার ৬৫১ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যৌথ পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিজার্ভ বাড়ার পেছনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ২ দশমিক ৮৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২ দশমিক ৪৭৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশি মুদ্রায় জুলাইয়ের রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা বিনিময় হার ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
জুলাইয়ের শেষ দুই দিনেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ও ৩১ জুলাই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ১৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। মাসের শেষভাগের এই অর্থপ্রবাহ জুলাইয়ের মোট রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
এর আগে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩০৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক অর্থবছরে এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড।
রেমিট্যান্স বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত মোট বা গ্রস রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, হুন্ডি প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক বৈদেশিক খাতের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা মিলতে পারে।











