সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় ফের দুপক্ষের গোলাগুলি, সোমবার থেকে ফের কঠোর অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির সাজেকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ১ নভেম্বর বিকেল ৪টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত সাজек পর্যটন এলাকার ঝুরঝুরি ছড়ার লাঙ্গলমারা এলাকায় সশস্ত্র এই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত শনিবারও ওই দুটি সংগঠনের মধ্যে একই ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুই দিন এমন সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো সাজেকজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, সাজেক পর্যটন সড়কে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন নামক স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি রোববার সকাল-সন্ধ্যা শিথিল করা হলেও এদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ব্যানারে খাগড়াছড়ির অপর একটি সংগঠন পালটা অবরোধের ডাক দেয়। এই পালটা অবরোধের প্রভাবে আগের দুটি সংগঠনের শিথিলতা তেমন একটা কার্যকর হয়নি বললেই চলে। ফলে ওই দিন কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও অন্যান্য দূরপাল্লার ও ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে ফের আগের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতাকর্মীদের মধ্যেই রোববার বিকেলে এই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবারও সাজек মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙামুড়া নামক স্থানে এই দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী পালটাপালটি গোলাগুলি হয়েছিল। যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই সশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিরোধ-জড়িত উভয় পক্ষই।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দলের কেউ এ ধরনের কোনো সশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।

একইভাবে সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেছেন, তাদের দলের কোনো নেতাকর্মী বর্তমান এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ত নন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজেক ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য পরিচয় চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, সাজেকের ঝুরঝুরি ছড়া ও সংলগ্ন লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র এই সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, রোববার বিকেলে সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং গোলাগুলি পুরোপুরি থেমে গেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, খাগড়াছড়িতে অপর একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাবে সাজেক সড়কে কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারলেও কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

এদিকে স্থানীয়দের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চলা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ১১তম দিন রোববার সকাল-সন্ধ্যা শিথিল করা হলেও, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’ নামক অপর একটি শ্রমিক সংগঠনের পালটা অবরোধের কারণে সেই শিথিলতা শেষ পর্যন্ত কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।

তবে আন্দোলনরত সংগঠন দুটির স্থানীয় নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী সোমবার থেকে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী সাজেক পর্যটন সড়কে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আগের মতোই নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।