সামরিক জটিলতা কাটিয়ে রেড রোডে ঈদের নামাজের অনুমতি

অনলাইন ডেস্ক:

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে পবিত্র কোরবানির ঈদের নামাজ আয়োজন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত মীমাংসিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে। সেনাবাহিনীর পূর্বঘোষিত সামরিক মহড়ার সময়সীমা পরিবর্তনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই সড়কে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এবারও ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত।

কলকাতার রেড রোড, যার সরকারি নাম ইন্দিরা গান্ধী সরণি, বহু দশক ধরে দুই ঈদের নামাজের কেন্দ্রস্থল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিমান মহড়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত এই সড়কের মালিকানা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রতিবছর এখানেই ঈদের নামাজের আয়োজন করে ‘কলকাতা খিলাফত কমিটি’।
তবে এবার ঈদ-উল-আজহার (কোরবানির ঈদ) আয়োজন নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। খিলাফত কমিটি গত ১০ মে প্রতিবারের মতো নেতাজি ভাস্কর্য থেকে ফোর্ট উইলিয়াম পর্যন্ত রেড রোড ব্যবহারের অনুমতির আবেদন করলেও সেনাবাহিনী ৩১ মে জানিয়ে দেয়, সামরিক প্রশিক্ষণের কারণে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ও খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ আহমেদ খান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চান। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। দু’দিন ধরে দিল্লি ও কলকাতার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত রোববার (২ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেয়, সামরিক মহড়ার সময়সূচি পরিবর্তন করে ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও খিলাফত কমিটির পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়। জাভেদ আহমেদ খান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একটা কারিগরি সমস্যা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেনা ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা সফল হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রেড রোডেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।”

রেড রোডে ঈদের নামাজ আয়োজনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯১৯ সালে শহীদ মিনার জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় প্রথমবারের মতো রেড রোডে ঈদের জামাত হয়। পরবর্তী সময়ে এটি দুই ঈদের অন্যতম প্রধান জামাতস্থল হয়ে ওঠে। যদিও ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড মহামারির কারণে এখানে নামাজ হয়নি, তবে ২০২২ সাল থেকে পুনরায় হাজার হাজার মুসল্লি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও সেখানে নামাজ আদায় করেন।

এই সড়ক ও আশপাশের এলাকা সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের আওতায় থাকায় নামাজ বা দুর্গাপূজার মতো বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সেনার অনুমতি আবশ্যক। যদিও অতীতে কখনো এমন জটিলতা তৈরি হয়নি, এবারের সেনার আপত্তি প্রথমবার নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ ও সরকারি-সামরিক সমন্বয়ের ফলে সেই অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।