“সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই”: ডা. শফিকুর রহমান

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৪ জানুয়ারি) কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সম্মানিত নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করবে।” এ সময় তিনি মাইনরিটি ও মেজরিটির বিভাজন প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে যে কেউ জন্মগ্রহণ করুক, তাদের জন্য এই দেশের সমান অধিকার থাকবে।”

ডা. শফিকুর রহমান আরো জানান, “এই দেশে কোনো ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হবে না এবং ইসলাম ধর্ম কারো ওপর জোরপূর্বক চাপানো হবে না।” তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন অপকর্মের প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে কমপক্ষে চারটি পদ্মা সেতু তৈরি করা যেত, তবে সেই টাকা কোথায় গিয়েছে?”

এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার জন্য একাংশের সমালোচনা করেন এবং দেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি আরো বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না এবং সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষিত হবে।”

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারী অধিকারের ক্ষেত্রেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কাউকে জোর করে বোরকা পরানো হবে না এবং অন্যান্য ধর্মের নারীরা তাদের পছন্দমতো পোশাক পরবে।”

সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবুল হাশেম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসেন, ছাত্রশিবিরের নেতা হাফেজ সেলিম রেজাসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, “আমরা একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়তে চাই, যেখানে দেশের যুবকরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং শিক্ষা গ্রহণের পর ন্যায্য কাজের সুযোগ পাবে।”

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতার শেষ অংশে মদিনার সনদে দেশ পরিচালনার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, “মদিনার সনদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সেই মদিনার আদর্শে পরিচালিত বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় ভিত্তিতে অধিকার বণ্টিত হবে না।”