সিলেটে ৬ দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট শুরুতে অচল হয়ে পড়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটে জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদের অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে এই ধর্মঘট কার্যকর হয়, ফলে সিলেট থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি এবং বাস টার্মিনালেও কোনো বাস প্রবেশ করেনি।

সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। ধর্মঘট চলাকালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও রোগী পরিবহন ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হলেও অন্যান্য যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

৬ দফা দাবি:

১. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ ধারার আওতায় যানবাহনের ইকোনোমিক লাইফ সীমাবদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল
২. সিলেটের সব পাথর কোয়ারি ও বালুমহাল খুলে দেওয়া
৩. বিআরটিএর ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল
৪. গণপরিবহনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ট্যাক্স প্রত্যাহার
৫. সিলেটের ক্রাশার মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ বন্ধ করা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান
৬. সিলেট জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদের অপসারণ ও চালকদের হয়রানি বন্ধ

পরিবহন শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট পেতে দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া পাথর কোয়ারি বন্ধের ফলে লাখো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সিলেটবাসীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একদিকে পাথর কোয়ারি বন্ধ, অন্যদিকে ফিটনেস ও ট্যাক্সের চাপ—সব মিলে পরিস্থিতি সহনীয় নয়।”

যদিও নগরীর অভ্যন্তরে সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা ও ছোট যানবাহন কিছুটা চলাচল করছে, তবুও যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। এতে করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

এদিকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট পরিবহন নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ তার মালিকানাধীন বাস ও ট্রাক চালু রাখার ঘোষণা দিলেও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেগুলো রাস্তায় দেখা যায়নি।

সিলেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এখনও ধর্মঘট নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি জেলা প্রশাসন।