সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভলকার তুর্কের মন্তব্যের বিষয়ে আইএসপিআরের স্পষ্টীকরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সোমবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসারে কাজ করে এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে, কিছু মহল ভলকার তুর্কের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, যা সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো বার্তা পায়নি। যদি কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তবে তা তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়ে থাকতে পারে, সেনাবাহিনীকে নয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, সেনাবাহিনী অতীতেও জনগণের পাশে ছিল এবং ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক রূপান্তরসহ বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও সেনাবাহিনী পক্ষপাতহীনভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ, এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের সিংহভাগ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, যার পরিমাণ গত ২৩ বছরে প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা।
আইএসপিআর জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে তা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
