হাইতিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক:

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালে বন্দুকধারীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, এছাড়া আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দেশটির সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ের সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালায়। হামলায় নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক, পুলিশ এবং চিকিৎসাকর্মীরা রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই ঘটনার এক প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ভবনের ভেতরে আহত বা মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েকজনের ছবি দেখা গেছে।

হামলার সময় সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রী লর্থ ব্লেমারের আগমন প্রত্যাশা করছিলেন। এমন সময় সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা হামলা চালায়। এই হামলায় দুই সাংবাদিক এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হাইতিয়ান টাইমসের ফটো সাংবাদিক দিউগো আন্দ্রে বলেন, “এটি একটি ভয়ানক সিনেমার মতো দৃশ্য ছিল।” তিনি বলেন, “বেশ কয়েকজন আহত সাংবাদিকের রক্ত আমার পোশাকে লেগে ছিল।”

এই হামলার জন্য দায়ী হিসাবে ভিভ আনসানাম গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে।

হাইতির প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান লেসলি ভলটেয়ার এক ভিডিও বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার এবং হাইতি ন্যাশনাল পুলিশ ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আমরা তাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এই কাজটির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

হাইতির গ্যাং সহিংসতা ২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসকে হত্যার পর থেকেই বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পোর্ট-অ-প্রিন্স শহরের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশ গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু এই বছরেই হাইতিতে সহিংসতায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।