হামাসের জিম্মি থাকা শেষ জীবিত মার্কিন সেনা এডেন আলেকজান্ডার মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক:

হামাসের জিম্মি থাকা শেষ জীবিত মার্কিন সেনা সদস্য এডেন আলেকজান্ডারকে মুক্তি দিয়েছে গাজাভিত্তিক গোষ্ঠী হামাস। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ মে) তাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২১ বছর বয়সী এডেন আলেকজান্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (IDF) কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের এক অভিযানে তাকে জিম্মি করা হয়। প্রায় ১৯ মাস পর পরিবারের কাছে ফিরে এলেন তিনি।

আলেকজান্ডারকে রেড ক্রসের কাছ থেকে গ্রহণের পর তাকে হেলিকপ্টারে করে তেলআবিবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত হন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের এই সিদ্ধান্তকে গাজা যুদ্ধের অবসান ও বাকি জিম্মিদের মুক্তির পথে “সদিচ্ছার” প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির নবায়ন এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে আলেকজান্ডারের মুক্তির সময় গাজায় কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি, যদিও হস্তান্তরের জন্য কিছু সময় সংঘর্ষ বন্ধ রেখেছিল দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি সম্প্রতি তেলআবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আলেকজান্ডারের মুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।

একই সঙ্গে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন তিনি মধ্যপ্রাচ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেখানকার জনগণের একটি বৃহৎ অংশকে স্থানচ্যুত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

ইসরায়েল গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে, যা নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, অবরোধের কারণে অন্তত পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি বর্তমানে অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।