নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৪৮ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে করে চলমান এই প্রাদুর্ভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ৮৯ হাজার ৯০৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৪ জন শিশু এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭০ হাজার ৫০৩ জন। একই সময়ে মোট ১০ হাজার ৭৭৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট ৬৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামের কারণে এবং ৫৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সন্দেহভাজন হামের উপসর্গে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুইজন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩৩১ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রামে ১৭৫ জন এবং বরিশালে ১৩৫ জন শিশু।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধারাবাহিক সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং আক্রান্তদের বড় একটি অংশ সুস্থ হয়ে ফিরছে, তবুও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে জনসচেতনতা ছাড়া এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে টানা আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।











