২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ৮ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যেগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, একইসঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সভার সভাপতি।

 

সভা সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

 

একনেক সভায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণও উঠে আসে। বিশেষ করে একাধিক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর কারণে কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

 

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ, সড়ক পরিবহন, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, জনপ্রশাসন এবং বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ। বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন, আনোয়ারা থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের দ্বিতীয় পর্যায় এবং শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

শিক্ষা খাতে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

 

একনেক সভায় আরও জানানো হয়, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভায় পানি সরবরাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

 

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প। একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো সত্ত্বেও অগ্রগতি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

 

একনেক সভায় আরও নির্দেশনা আসে প্রকল্প ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি দপ্তরগুলোর রেট সিডিউল একীভূত করার বিষয়ে। একই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যয় কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সড়কের পাশে পরিবেশগত ক্ষতিকর গাছ না লাগানোর বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

 

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীনা অর্থনৈতিক জোন প্রকল্পটি আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। আগামী সভায় বিষয়টি আবার উপস্থাপন করা হতে পারে।