নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরালো হচ্ছে। সরকারের আমন্ত্রণে মোতায়েন করা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশন জানিয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবেন। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ তুলে ধরাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মারসেল নেগি ও ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভাসিল ভাসচেনকা। সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও উপস্থিত ছিলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একাধিক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।
বৈঠকে মিশনের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই শত পর্যবেক্ষক এবং ১১ জনের বিশ্লেষক দল নিয়ে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের মূল দলটি ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচার কার্যক্রম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে মূল দলের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন।
মিশন প্রতিনিধিরা আরও জানান, নির্বাচনের কিছু দিন আগে ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল তালিকাভুক্তকরণ পর্যবেক্ষণের জন্য আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও অংশীদার দেশগুলো থেকেও কয়েকজন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ইইউ পর্যবেক্ষক দল জানায়, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুনির্দিষ্ট ও স্বীকৃত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি তথ্যনির্ভর, সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন উপস্থাপন করবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় মিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং এ উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এই প্রতিবেদন মিশনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে বলেও জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সেটিও মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।











