জেলা প্রতিনিধি :
বর্ষা শুরু হতেই আবারও দুর্দশায় ডুবল ফেনী। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ২৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার ১১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩৪,৬০০ মানুষ।
জেলার উত্তরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা অসীম। বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে, রোপা আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, তলিয়ে গেছে সড়ক, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু এলাকা।
ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুরের বৃদ্ধা রেজিয়া বেগম বলেন,
“বছর না ঘুরতেই আবারও পানিতে ডুবতে হলো। সবকিছু ভিজে গেছে, মনে হয় এখানে জন্ম নিয়ে ভুল করেছি।”
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে স্থানীয়রা বলছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে বাঁধ ভাঙা এখন “নিয়মে পরিণত” হয়েছে। রাজনৈতিক দল বদলায়, কিন্তু তাঁদের ভাগ্য বদলায় না।
শনিবার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ফেনীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে জানান, ফেনীর বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭,৩৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ বেড়েছে, যা গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরিভাবে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, নগদ অর্থসহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রয়োজন। মধ্য মেয়াদে ঘরবাড়ি মেরামত, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং খাদ্য উৎপাদনে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা ও আয়মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।
বন্যার শুরু থেকেই অবশ্য বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, শুকনো খাবার, ওরস্যালাইন ও পানি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, নিরাপদ পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান ও খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া বন্যার ক্ষয়ক্ষতির অবস্থার তুলনায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে আরও বেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।











