মিয়ানমারে তুলে নেওয়া হলো জরুরি অবস্থা, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন

অনলাইন ডেস্ক:

মিয়ানমারে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) থেকে দেশজুড়ে জারি থাকা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামরিক জান্তা সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত এনএলডি সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে জান্তার শাসন চলছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির বরাতে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনীর প্রধান ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং নতুন নির্বাচনের তত্ত্বাবধান করবেন। তার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ১১ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেছেন, “বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে এগিয়ে যেতে আমরা পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতা আরও সংহত করার একটি কৌশল মাত্র। কারণ নির্বাচন হলেও শাসন ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে এনএলডি বিপুল ভোটে জয়ী হলেও সেনাবাহিনী ফলাফল বাতিল করে কারচুপি অভিযোগ তোলে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে এবং এনএলডির শীর্ষ নেতাদের কারাগারে পাঠায়। অং সান সুচিও এখনও বন্দি রয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, জান্তা সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে; রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে।