থাইল্যান্ডে আটক ৪৩ উইঘুরের চীনে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা: জীবন নিয়ে শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক:

থাইল্যান্ডে আটক ৪৩ জন উইঘুর পুরুষ চীনে ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্তে রাজি নয়। তারা সতর্ক করেছেন, ফেরত পাঠানো হলে তারা চীনে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন এবং জীবনও হারাতে পারেন। থাইল্যান্ড সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিলেও, উইঘুররা দেশটির সরকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন তাদের জীবন রক্ষায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়।

চীনে বাস করা উইঘুররা, যারা জিনজিয়াং অঞ্চলের তুর্কি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী, চীনা সরকারের সাংস্কৃতিক দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন। চীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে এক তীব্র অভিযান শুরু করেছে, যা কিছু পশ্চিমা সরকার গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। বহু উইঘুরকে বন্দি শিবিরে পাঠানো হয়েছে, এবং তারা নির্যাতন, রোগ, এবং মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালে চীন থেকে পালিয়ে আসা উইঘুরদের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি মালয়েশিয়ার সীমান্তে থাই কর্তৃপক্ষ আটক করে। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ড ১০৯ জন উইঘুরকে চীনে ফেরত পাঠায়, যা তখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। তাদের মধ্যে ১৭৩ জনকে তুরস্কে পাঠানো হয় এবং ৫৩ জন উইঘুরকে থাইল্যান্ডে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে থাইল্যান্ডে আটক উইঘুরদের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় বলে তাদের আইনজীবী ও আত্মীয়রা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, বন্দিদের কম খাবার দেওয়া হয়, তাদের কংক্রিটের সেলে রাখা হয়, এবং স্যানিটারি সামগ্রী থেকে বঞ্চিত করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ২০২৪ সালে থাইল্যান্ড সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন, যে তাদের আচরণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে। তবে থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আটককৃতদের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি, থাই অভিবাসন কর্মকর্তারা বন্দিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার কাগজপত্রে সই করতে বলায়, বন্দিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, উইঘুর মানবাধিকার গোষ্ঠী ও অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করেছেন, আটক উইঘুররা নির্দোষ, এবং তাদের চীনে ফেরত পাঠানো হলে তারা নিপীড়ন, কারাবাস ও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারেন। উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পরিচালক পিটার আরউইন বলেন, “থাইল্যান্ডে আটক ৪৩ জন উইঘুরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

তবে থাইল্যান্ডে আটক উইঘুররা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তাদের পরিবারও উদ্বিগ্ন, এবং তাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর চিন্তা করছেন। বিলাল আবলেট, একজন উইঘুর বন্দির ভাই, বলেছেন, “আমরা উদ্বেগ ও ভয়ের মধ্যে রয়েছি, কারণ বিশ্ব সরকার জানে, কিন্তু চীনের চাপের কারণে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।”

সূত্র: এফএনএস বিদেশ