অনলাইন ডেস্ক:
গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইট, বিজি-৩৫৬, ইতালির রোম থেকে ঢাকায় আসছিল। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগে, কন্ট্রোল রুমে একটি বোমা থাকার হুমকির বার্তা পৌঁছায়। এর পর শুরু হয় শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা সময়, যখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া, বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম এবং দুই শতাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সকাল থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমে পড়েন। বিমানবন্দর এলাকা পুরোপুরি নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতি নেয় এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেন।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কন্ট্রোল রুমে একটি বার্তা আসে, যেখানে বলা হয় যে, রোম থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৫৬-এ বোমা রাখা আছে এবং যে কোনো সময় সেটি বিস্ফোরিত হতে পারে। খবর পেয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান, বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক, এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ছুটে আসেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। এরপর, প্রথমে দুই শতাধিক যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়। তারপর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটি তল্লাশি করে এবং ১১টা পর্যন্ত দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ছাড়া কিছুই পায়নি।
১২টার দিকে ফ্লাইটটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। বেবিচক চেয়ারম্যান মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত এবং আমরা সবসময় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।”
এ ধরনের হুমকির পর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।











