অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ডব্লিউইএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠককালে, ড. ইউনূস বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সরকারকে জনগণের চাহিদা বোঝার পরেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। যদি জনগণ ছোট পরিসরের সংস্কার চায়, তাহলে নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে। তবে যদি দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের দাবি ওঠে, তাহলে তার জন্য সময় লাগবে।” তিনি এও বলেন, “এ বছরই যদি জনগণ দ্রুত সংস্কার চায়, তবে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত আছি।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিরসনের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা ঢাকার দেয়ালগুলোতে তাদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন প্রকাশ করেছে। তিনি এ সময় ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা যে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যত গড়তে চাইছে।”
তিনি জানান, নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি, যা তিনি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক মনে করেন। “বাংলাদেশে গত ১৬ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এখনও আসেনি,” বলেন ড. ইউনূস।
এই প্রজন্মকে “মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম” হিসেবে আখ্যায়িত করে, অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “তারা এখন শুধু বাংলাদেশি নয়, বরং বিশ্বের তরুণদের অংশ হয়ে উঠেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রজন্ম পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না, তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।
এছাড়া, ড. ইউনূস জানান, তরুণদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হচ্ছে, যাতে সকল রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। তিনি বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইতিবাচক গতি ফিরে আসার কথা জানান।
এ সময় ক্লাউস শোয়াব ড. ইউনূসের বক্তব্যে মুগ্ধ হন এবং আধাঘণ্টার আলাপচারিতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।











