চীনের DeepSeek মডেল বদলে দিচ্ছে AI দুনিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের অজানা AI ল্যাব ‘DeepSeek’ সম্প্রতি এমন একটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে যা সিলিকন ভ্যালির মতো জায়গাগুলিতে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তারা একটি শক্তিশালী ওপেন-সোর্স বড় ভাষাগত মডেল তৈরি করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় AI মডেলগুলোকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মডেলটি তৈরি করতে মাত্র দুই মাস সময় এবং ছয় মিলিয়ন ডলারের কম খরচ হয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মডেল তৈরিতে প্রয়োজন হয় ব্যয়বহুল চিপ এবং বড় ডেটা সেন্টার।

তৃতীয় পক্ষীয় পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, ‘DeepSeek’-এর মডেলটি Meta-র Llama 3.1, OpenAI-এর GPT-4o এবং Anthropic-এর Claude Sonnet 3.5-এর তুলনায় জটিল সমস্যা সমাধান, গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে। এটি শুধু চীনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রমাণই নয়, বরং AI ক্ষেত্রে মার্কিন আধিপত্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এই সাফল্যের পেছনে চীনের কম খরচে এবং কার্যকর গবেষণা পদ্ধতি ভূমিকা রেখেছে। সহজলভ্য ঋণ, স্বল্পখরচে উচ্চশিক্ষা, এবং সরকারি নীতিগত সুবিধাগুলো চীনের বিজ্ঞানীদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এতে বোঝা যায়, উন্নত চিপ এবং বিশাল ডেটা সেন্টার ছাড়াও AI প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

বিশ্লেষকরা এই সাফল্যকে AI শিল্পে খরচ-কার্যকারিতার একটি নতুন মডেল বলে ব্যাখ্যা করছেন। Perplexity-র CEO আরবিন্দ শ্রীনিবাস এই প্রকল্পকে “একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক এবং খরচ-কার্যকারিতার নতুন দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

DeepSeek তাদের মডেলটি ওপেন-সোর্স করার মাধ্যমে সারা বিশ্বের গবেষক ও ডেভেলপারদের জন্য এটি উন্মুক্ত করেছে, যা AI প্রযুক্তিকে আরও গণতান্ত্রিক ও সহজলভ্য করেছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের AI কৌশল কীভাবে পুনর্গঠন করে। এটি স্পষ্ট যে AI ক্ষেত্রে চীনের এই অগ্রগতি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।