ভ্যাট অডিটে ‘ডিজিটাল জাল’, একসঙ্গে ৬০০ প্রতিষ্ঠানের নাম এনবিআরের তালিকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। স্বয়ংক্রিয় ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ চালুর মাধ্যমে প্রথম ধাপে দেশের ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে অডিটের আওতায় এনেছে এনবিআর, যেখানে কোনো ধরনের মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঝুঁকি বিবেচনায় নির্বাচন করা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এনবিআরের একাধিক সূত্র ও বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, অডিটের নামে হয়রানি ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর সুযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এখন থেকে কোনো কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছামতো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য বাছাই করতে পারবেন না। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই প্রতিষ্ঠান নির্বাচন হচ্ছে, এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”

 

একই বিষয়ে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, “করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অডিট প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ করতে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখানে কোনো ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

 

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তথ্য সরাসরি ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস, পস মেশিন বা সফটওয়্যার থেকে এনবিআর সার্ভারে জমা হয়। পাশাপাশি অনলাইনে জমা দেওয়া ভ্যাট রিটার্ন এবং আমদানির তথ্যও যুক্ত হয় একই প্ল্যাটফর্মে। ফলে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ও আউটপুট ভ্যাটের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

 

এই সিস্টেমে ২০টি নির্দিষ্ট ঝুঁকি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে গরমিল, হঠাৎ বিক্রি কম দেখানো বা অস্বাভাবিক ভ্যাট দাবি করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়। এরপর ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়।

 

প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৬০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০৫টি উৎপাদনকারী, ৯৮টি সেবাদানকারী, ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ৩২টি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এনবিআর ইতোমধ্যে এই তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

 

এনবিআর বলছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন করদাতাদের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করাও সহজ হবে। সংস্থাটি মনে করছে, “ভ্যাট প্রশাসনে এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।”

 

অডিট শেষে প্রত্যাশিত ফল না এলে ঝুঁকি সূচক ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ পদ্ধতিও পর্যালোচনা করে আরও উন্নত করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। কর ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও করদাতাবান্ধব করতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অটোমেশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।