চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনের তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে অধিকাংশ ইটভাটা, যা ধ্বংস করে ফেলছে পরিবেশ। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা, কৃষি ও প্রকৃতির ওপর। তবে, এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এখনও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, জেলার ৯৩টি ইটভাটার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনা বা চালু করা আইনত নিষিদ্ধ। বিশেষ করে আবাসিক, সংরক্ষিত, বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ইটভাটায় কাঠ ব্যবহারও বেআইনি।

অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, আমবাগান ও কৃষি জমির কাছে। এমনকি এসব ইটভাটায় কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিশাল মাঠজুড়ে সবুজ প্রকৃতি ছাপিয়ে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু ইটভাটা আবার আমবাগানের মধ্যেই গড়ে উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণ দিকে তাকালেই প্রায় ১৪টি ইটভাটার ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

জেলার ইটভাটা মালিকদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, তারা পরিবেশ রক্ষা করে ফাঁকা জায়গায় ইটভাটা স্থাপনের চেষ্টা করেন, তবে উপযুক্ত স্থান না পাওয়ার কারণে ইটভাটা বসতবাড়ি বা কৃষি জমির কাছেই স্থাপন করতে হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১১৩টি ইটভাটা চালু রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি বৈধ এবং ৯৩টি অবৈধ।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু সাইদ জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। তবে একসঙ্গে সব ইটভাটা বন্ধ করা সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শীঘ্রই অভিযান শুরু করা হবে।