উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত কয়েক দিন ধরে চলা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী স্টেশনের সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে ৮টিতে পৌঁছেছে।

সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং পানির এই ক্রমবর্ধমান চাপ স্থানীয় জনপদে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

 

আজ সোমবার (৪ মে) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সাতটি নদীর পানি অন্তত ৮টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও উজানের পানির প্রভাবে নদ-নদীর এই আকস্মিক বৃদ্ধি স্থানীয় হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইল ও হবিগঞ্জ সদরে সর্বোচ্চ ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুরের বাগানে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির হার বর্তমানে অত্যন্ত ধীর-প্রতি ঘণ্টায় মাত্র শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে পানি বাড়ছে।

 

নেত্রকোনা জেলায় নদ-নদীর পানি বেশ কয়েক জায়গায় বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ধনু-বাউলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে থাকলেও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী এবং জারিয়াজঞ্জাইলে কংশ নদীর পানি কিছুটা কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার যথাক্রমে ৫০ ও ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলায় সুতাং নদীর পানি সুতাং রেলসেতু এলাকায় বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে, যা এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসামেও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।