নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২০ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, “একটি নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলাই আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার ঢাকার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার চাপ, ভাসমান মানুষের বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাং, মাদক, সাইবার অপরাধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের জনবল সীমিত হলেও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইবার ইউনিট শক্তিশালীকরণ এবং অনলাইন প্রতারণা দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, “ছোট অপরাধ হলেও পুলিশকে তথ্য দিন, কারণ ছোট অপরাধ থেকেই বড় অপরাধ জন্ম নেয়।” তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ব্যবহার করেও দ্রুত তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
উগ্রবাদ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় বর্তমানে বড় কোনো উগ্রবাদী তৎপরতার নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো তথ্য পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য নয়, অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিং মল, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, “নিরাপদ ও সুন্দর ঢাকা গড়তে শুধু পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”











