টানা ছুটিতে কোলাহলহীন রাজধানী, উধাও চিরচেনা যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হতেই চিরচেনা রূপ বদলে এক শান্ত ও নিরিবিলি নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় চিরব্যস্ত এই মেগাসিটির চিরন্তন যানজট ও কোলাহল এখন একেবারেই উধাও।

এবারের ঈদে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সাধারণ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই লম্বা ছুটির সমন্বয় করতে গিয়ে গত ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস-আদালত খোলা ছিল। ছুটি শেষে আগামী ১ জুন সোমবার থেকে আবার আগের নিয়মে চালু হবে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংক।

 

ছুটির দ্বিতীয় দিন আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মিরপুর, বনানী, খিলক্ষেতসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। সাধারণত যেসব রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ জটলা আর হর্নের শব্দে কান পাতা দায় হতো, সেসব সড়ক এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। অল্প কিছু গাড়ি চলাচল করলেও তাতে কোনো তাড়াহুড়ো বা প্রতিবন্ধকতা নেই।

 

রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে যাত্রীও। বিভিন্ন রুটের বাসগুলোকে মোড়ে মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে। অনেক বাসই অর্ধেকের বেশি সিট খালি রেখে চলাচল করছে। বাস সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায় হুট করেই যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। তবে গণপরিবহন কম থাকলেও রাস্তায় প্রাইভেটকার ও মোটরবাইকের মতো ব্যক্তিগত যানবাহনের উপস্থিতি বেশ ভালোই চোখে পড়েছে।

 

মিরপুর থেকে উত্তরা রুটে চলা ‘প্রজাপতি পরিবহন’-এর বাস হেলপার সুমন বলেন, অন্য দিনগুলোতে সকালে বাসে পা ফেলার জায়গা থাকে না। অথচ এখন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস ভরানো যাচ্ছে না। একই বাসের আরেক কর্মী রাসেল জানান, ঈদের ছুটি শুরু হতেই যাত্রী কমে গেছে, তাই আগের মতো কাজের চাপ নেই।

 

এদিকে সড়কের এই শান্ত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তিতে আছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সিগন্যালে অন্য সময়ের মতো গাড়ির চাপ সামলানোর বাড়তি কোনো ঝামেলা ছাড়াই তারা বেশ আরামদায়কভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।