নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কালশীর বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে বাজেট ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করা বিএনপির কিছু নেতাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, দলের ভেতরে থাকা “অশিক্ষিত” ব্যক্তিদের বিষয়ে বিএনপির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।
রোববার (৩১ মে) সকালে কালশীর বাউনিয়াবাদ বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই পুরো বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “উচ্ছেদ করতে এসে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে, এরপর কয়েক দিনের মধ্যে আগুন লাগলো। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা মনে করি না।”
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়েও জোর দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারি জমি সরকার বুঝে নিতে পারে, তবে সেখানে বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না। যদি জনস্বার্থে সরাতেই হয়, তাহলে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই তা করতে হবে।”
এ সময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে করা এক মন্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিএনপিতে কিছু অশিক্ষিত লোকজন আছে, তারা জানে না বাজেট নির্ধারণ মানেই টাকা নিয়ে যাওয়া নয়। বিএনপির উচিত তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।”
ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয়হীন মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার ও জরুরি সহায়তা বিতরণ করা হয়। দলটির নেতারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কালশী বস্তির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।











