নিজস্ব প্রতিবেদক:
চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির কথিত স্বামী ও ব্যবসায়িক অংশীদার প্রযোজক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
চাকরি ও ডিলারশিপ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে, পাশাপাশি গাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মসাৎ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মামুনকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গুলশানের একটি বাসায় টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযানের পর বাথরুমের ফলস সিলিং থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
গুলশান থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মামুন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী। শুক্রবার রাত থেকে বাসাটি নজরদারিতে রাখা হয়। পরে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
পুলিশ বলছে, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা দায়ের হয়। এরপর প্রায় এক মাস ধরে তাকে খুঁজছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি। তবে কয়েক দফায় তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যান। ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।
গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ থাকার তথ্য দিয়ে তারিকুজ্জামান বলেন, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারণার অভিযোগে মামুনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মামুন জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মামুন নিজেকে ‘বিটিএল গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রতারণা এবং অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেকে ভবিষ্যতের আশায় জমিজমা বিক্রি করে কিংবা সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, কোরবানির ঈদের আগে তিনি একটি অ্যাগ্রো খামার থেকে আটটি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অর্থ পরিশোধ না করা ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ বলছে, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।











