অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ: আইসিজি

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে, সেই সমর্থন এখন হ্রাস পেতে শুরু করেছে এবং চলতি বছরে সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) এর এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তখন ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই সমর্থন কমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর ফল প্রদানের চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে ড. ইউনুসের ওপর।

এছাড়া, প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন সংস্কার এবং নির্বাচন নিয়ে মাঠে নামতে শুরু করেছে। ফলে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে গেছে।

আইসিজি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী দল, ছাত্রনেতা, ইসলামি গোষ্ঠীসহ একাধিক রাজনৈতিক অংশীদার নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কারণে সরকারের সামনে আরও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিবেদনটি ‘বাংলাদেশ: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের উভয়সংকট’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে উত্তর কোরিয়া, সুদান, ইউক্রেন, ইরান, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, মলদোভা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে।

আইসিজি প্রতিবছর ‘ইইউ ওয়াচলিস্ট’ প্রকাশ করে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ বাড়াতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

এছাড়া, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগণের দায়িত্বও সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কীন জানিয়েছেন, “আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রব্যমূল্য লাগামছাড়া হয়ে পড়েছিল, যা সামাল দিতে গলদঘর্ম হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”

তবে, থমাস কীন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অধিক অংশগ্রহণমূলক এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করার বিরল সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, সংস্কার কমিশন বর্তমানে শত শত প্রস্তাব নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছে।

এছাড়া, আইসিজি এর আগেও আগস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশ এখন একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।