ইউরোপে তাপপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘরে, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনজীবনে বিপর্যয়

অনলাইন ডেস্ক:

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বারবার ফিরে আসা তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের স্পষ্ট লক্ষণ এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরও ঘনঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হবে।

 

প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)’র চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের কিছু সীমাও অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যা দেখা গেছে, ভবিষ্যতে আমরা তার আরও বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করব।’

 

অস্ট্রিয়ায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সতর্কতা

 

অস্ট্রিয়ার আবহাওয়া বিভাগ দেশটির পূর্বাঞ্চল, রাজধানী ভিয়েনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করেছে।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। নাগরিকদের দিনের সবচেয়ে গরম সময় ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

 

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা(ডব্লিউএইচও)’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রিয়েইসুস বলেছেন, ‘ইউরোপের তাপপ্রবাহ স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’

 

তিনি জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলো মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা

 

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইউরোপে অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে ফ্রান্স ও স্পেন।

 

অন্যদিকে তুরস্ক বাদে ইউরোপের ৩৫ কোটিরও বেশি মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা অনুভব করবে, যা মহাদেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান।

 

যুক্তরাজ্যে বিরল ‘রেড অ্যালার্ট’

 

যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে বুধবার থেকে বিরল ‘রেড অ্যালার্ট’ কার্যকর হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বছরের এ সময়ের জন্য নজিরবিহীন।

 

সতর্কতা জারি করা হয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়, যার মধ্যে রাজধানী লন্ডন এবং বার্মিংহাম রয়েছে।

 

ফ্রান্সে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন

 

ফ্রান্সে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজারের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।

 

বিদ্যুৎ বিপর্যয়

 

উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সে তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে তীব্র তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

পর্যটনকেন্দ্র ও স্থাপনায় সময় কমানো

 

অটোমিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই এটি বন্ধ করা হবে।

 

একই কারণে আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর মিউজিয়াম কর্র্তৃপক্ষ আগেভাগে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

এ ছাড়া নরমান্দিতে দৃষ্টিনন্দন মঁ সেঁ মিশেল দ্বীপ কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ‘রেড অ্যালার্ট’ চলাকালে ভ্রমণ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

 

শ্রমিকদের কর্মবিরতি

 

ফ্রান্সের মুলহাউজ শহরের কাছে স্তেলান্তিজের একটি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মপরিবেশের প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে রোববার পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

ফ্রান্সে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড

 

ফ্রান্স মঙ্গলবার ১৯৪৭ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে উষ্ণ দিন পার করেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ৩০টি স্টেশনের তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় গড় তাপমাত্রা সূচক ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

 

এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই এবং ২০০৩ সালের ৫ আগস্ট নিবন্ধিত হয়েছিল।