অনলাইন ডেস্ক:
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, ইরান সমর্থিত হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়ারা দেশটিতে সমন্বিত ও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার (৬ আগস্ট) ভোরে জানান, বৃহস্পতিবার নাজরান প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়। আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, দুজন মিসরীয়, একজন ইয়েমেনি এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে, যার শরীরের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে গেছে।
মালিকি অভিযোগ করেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করছে। বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় জোট বাহিনী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে এই হামলার বিষয়ে হুতি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে-ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়ারা শিগগিরই সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শুক্রবার রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এই লক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রিয়াদ যখন আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই হামলার হুমকি আসছে। এটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি চেষ্টা হতে পারে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সৌদি আরবের অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।











