ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

বনানীতে শেষশয্যায় তৌফীক নাওয়াজ, দাফন শেষে কারাগারে ফিরলেন দীপু মনি

প্রকাশিত: 20 August 2026, 10:10 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃষ্টিভেজা বিকেলে বনানী কবরস্থানে চিরশায়িত হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পৌনে ৩টার দিকে বাবা আমিনুর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাওয়া দীপু মনি দাফন শেষে কঠোর নিরাপত্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরে গেছেন।

 

দাফনের সময় তৌফীক নাওয়াজের মেয়ে দ্বীপান্বিতা নাওয়াজ বাবার কবরে মাটি দেন। পাশেই ছিল তার মা খায়রন নেছার কবর। দাফন শেষে বনানী গোরস্থান মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় মোনাজাতে অংশ নেন দীপু মনি ও পরিবারের সদস্যরা। স্বামীর জন্য দোয়া করেন তিনি।

 

দাফন ও মোনাজাতের পুরো সময় বনানী কবরস্থানে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। ঢাকা মহানগর পুলিশ ও কারাগারের নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। স্বামীকে দাফনের পর নিজের বাবা এম এ ওয়াদুদের কবরও জিয়ারত করেন দীপু মনি। এম এ ওয়াদুদ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন।

 

কবর জিয়ারত শেষে বৃষ্টির মধ্যেই দীপু মনিকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে ভ্যানটি বনানী কবরস্থান ছাড়ে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তার প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই সময়ের আগেই তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পান দীপু মনি। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কঠোর পুলিশি পাহারায় ঢাকায় নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি কলাবাগানের নিজ বাসায় পৌঁছান।

 

তৌফীক নাওয়াজের মরদেহও সকালে কলাবাগানের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে ফ্রিজার ভ্যানে রাখা ছিল মরদেহ। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি কয়েকজন পরিচিতজনও দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

 

চাঁদপুর আওয়ামী লীগের জাকিয়া সুলতানা শেফালীও তাকে সান্ত্বনা দিতে বাসায় যান। দীপু মনির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, “উনি ভালো নেই। এ সময় তার কী অবস্থা, সেটা তো বোঝা যায়।”

 

বেলা সোয়া ১২টার পর তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ নিয়ে ফ্রিজার ভ্যান রওনা হয় গুলশানের আজাদ মসজিদের দিকে। পরে দীপু মনিকেও প্রিজনভ্যানে করে সেখানে নেওয়া হয়। বাদ জোহর আজাদ মসজিদে জানাজার নামাজ চলার সময় তিনি প্রিজনভ্যানেই ছিলেন।

 

জানাজা শেষে ভ্যান থেকে নেমে স্বামীকে শেষবারের মতো দেখেন দীপু মনি। এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন আজাদ মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আবদুর রহিম।

 

তৌফীক নাওয়াজের ছোটভাই তাইমুর নাওয়াজ পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কথা বলেন। জানাজায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি তার বন্ধু, সহকর্মী ও একসময়কার সহপাঠীরাও অংশ নেন। আইনজীবী মহসীন রশিদ, মনিরুল আলম ও সৈয়দ আশরাফুল হক তাদের মধ্যে ছিলেন।

 

জানাজার পর আজাদ মসজিদের সামনের সড়কে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় একজনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তৌফীক নাওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে, যা আগে ইউনাইটেড হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোকও করেছিলেন।

 

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। সর্বশেষ ২৭ মে স্বজনরা তাকে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন।

 

দীপু মনি চব্বিশের আন্দোলনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে আছেন। স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। দাফন শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন