নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ওশান এইড সার্ভিসেস লিমিটেড (ওএএসএল)। প্রতিষ্ঠানটি ইপিসি প্লাস এফ (প্রকৌশল, ক্রয়, নির্মাণ ও অর্থায়ন) মডেলের আওতায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম মনজুর আলম বলেন, সম্ভাবনাময় ও অর্থায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে ওএএসএল। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরকে পরস্পরের পরিপূরক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি। ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি মূলধন, প্রযুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে ওএএসএল। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, গ্যাসভিত্তিক ও হাইব্রিড দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র, গ্রিড অটোমেশন, সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) ব্যবস্থা ও স্মার্ট মিটারিং, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও এলপিজি টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ওএএসএল যেসব অর্থায়নকারী গোষ্ঠীর শর্ত বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে, সেগুলো ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে হবে এবং তাতে আমদানিনির্ভর উপাদান থাকতে হবে।
মনজুর আলম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকল্পকে চূড়ান্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রকল্প চূড়ান্ত করা হবে।
ওএএসএলের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প চিহ্নিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, শর্তপত্র (টার্ম শিট) প্রস্তুত এবং অর্থায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
ইপিসি প্লাস এফ মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তার মধ্যে থাকবে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা রাষ্ট্রীয় সংস্থা নির্ধারণ, প্রকল্পের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন। অর্থায়ন কাঠামোর প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্বভৌম ঋণের ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবিত এ মডেলে স্থানীয় অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনজুর আলম বলেন, প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ওএএসএল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বাংলাদেশি কোম্পানি, ইপিসি ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
ওএএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদাররা প্রযুক্তি, প্রকৌশলগত দক্ষতা, সরঞ্জাম, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন দেবে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করবে ওএএসএল।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার সময় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ভূমিকারাখতে পারে। তবে এসব সুফলের পরিমাণ নির্ভর করবে প্রতিটি প্রকল্পের আকার, কাঠামো ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর।
মনজুর আলম বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনামূলক কম অংশগ্রহণের কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন ও জ্বালানি সংরক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওএএসএল কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।











