অনলাইন ডেস্ক:
সীমান্ত পেরিয়ে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলায় ঢুকে পড়া একটি হিংস্র বাঘের আকস্মিক আক্রমণে অন্তত তিনজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার গোতামারি ইউনিয়নের বনচৌকি নামক সীমান্ত এলাকায় এই আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী বাঘটি সীমান্ত অতিক্রম করে সরাসরি ভারত থেকে আমাদের দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি ১৫ ব্যাটলিয়নের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার অন্তর্গত বনচৌকি বিওপির আওতাধীন আমঝোল নামক নির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে একটি হিংস্র বাঘ বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বাঘটির অতর্কিত হামলায় তিনজন মানুষ আহত হন। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় বন বিভাগের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিজিবির সশস্ত্র টহল অব্যাহত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের দপ্তরে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট বা পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম এই মুহূর্তে নেই। তবে জরুরি লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করার জন্য ইতোমধ্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না বাঘটি ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছে, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আশেপাশের কোনো ধানক্ষেতের ভেতরে আত্মগোপন করে আছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এটি আকারে একটি মধ্যম শ্রেণির বাঘ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাতিবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরিফুল আমিন আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আক্রমণের শিকার হওয়া আহতদের মধ্যে একজন সরাসরি নিজের উদ্যোগে রংপুরের দিকে চলে গেছেন। বাকি দুজনকে আমরা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি। তিনি জানান, আহত শরিফা বেগমের (৩০) মাথার ডান পাশে বাঘের বড় ধরনের কামড়ের পাশাপাশি তার হাতে গভীর আঁচড়ের ক্ষত রয়েছে। এছাড়া অপর আহত আফসার আলীর (৫৪) শরীরের পেছনের অংশে কোমরের স্থানে হিংস্র এই বন্যপ্রাণীর কামড় ও নখের মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
হাতিবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপজন মিত্র এই বন্যপ্রাণী উদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বন বিভাগের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টবাহী দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে, আজকের রাতের মধ্যেই ট্রাংকুলাইজার গান বা চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে এবং প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে মেনেই বাঘটিকে নিরাপድে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যে নির্দিষ্ট কৃষি জমিতে বাঘটি বর্তমানে লুকিয়ে আছে, সেই স্থানটি বিজিবি ক্যাম্পের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। তাই বিজিবি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে এলাকাকে সতর্ক করতে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে।











