ইউরোপের এক দেশে নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে সরকার গঠন করছে জেন-জি

অনলাইন ডেস্ক:

সার্বিয়ার আলেক্সান্দার ভুচিচ রবিবারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ শেষ হলো এবং বলকান দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হলো। জানা যায়, প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে শিক্ষার্থীরা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পাবে এবং তার সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পাবে ১০৫টি।

পপুলিস্ট ও জাতীয়তাবাদী ভুচিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য করে এসেছেন। ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর কথিত দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ চলে। এর পর সেপ্টেম্বরে তিনি আকস্মিক নির্বাচন ডাকেন।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ভুচিচ বলেন, এটি স্পষ্ট, আমরা এ নির্বাচনে হেরে গেছি, স্টুডেন্ট লিস্ট জিতেছে। তার ঘোষণার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বেলগ্রেডের রাস্তায় উল্লাস ফেটে পড়ে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। গাড়ির হর্ন বাজছিল, মানুষ নাচছিলেন, আর শিক্ষার্থীরা চিৎকার করে বলছিলেন, বিজয় ও ওর দিন শেষ।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশটিতে শিক্ষার্থীদের এ জয় গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের কথা এতে মনে পড়ে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার মানের নিম্নগতি ও সম্ভাবনার অভাবের প্রতিবাদে, কিছু ক্ষেত্রে সহিংসভাবে, ইউরোপজুড়ে রাস্তায় নামা অন্য শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর জন্যও এটি পথপ্রদর্শক হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের সদর দফতর তাদের পক্ষে বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ বলেন, প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্‌যাপন করছি, কাল আমরা ভবিষ্যৎ গড়ব।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং সম্প্রসারণবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার মার্তা কোসসহ ইউরোপীয় নেতা ও কর্মকর্তারা স্টুডেন্ট লিস্টকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্সে ফন ডার লায়েন লেখেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্বিয়ার ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে…একসঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাজার শিক্ষার্থীদের তার দেশের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।