অধ্যাপক ইউনূসকে জঙ্গি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী ও ভারতীয় গণমাধ্যম অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জঙ্গি নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, “অধ্যাপক ইউনূসকে জঙ্গি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করা হচ্ছে, এবং ভারতীয় মিডিয়া এই অপপ্রচারে অংশ নিচ্ছে। তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাইছে যে, বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা আসলে গণ-অভ্যুত্থান নয়, এটি একটি বড় চক্রান্ত।”

তিনি আরো বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশের ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে, এবং তারা দাবি করছে তিন হাজার পুলিশ মারা গেছে। তাদের ওয়েবসাইটে অধ্যাপক ইউনূসকে জঙ্গিদের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।”

শফিকুল আলম বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার।” তার দাবি, হাসিনা সরকারের অলিগার্করা মিলিয়ন ডলার খরচ করছে এই অপপ্রচারের পেছনে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর ধরে ইতিহাসকে উল্টে দিয়ে নতুন ইতিহাস চাপানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাস মুছে নতুন ইতিহাস চাপিয়ে শোষণ করার চেষ্টা করেছে। তারা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে কোনও গবেষণা বা লেখা প্রকাশ করতে দেয়নি।”

শফিকুল আলম ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, “১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে আমার ভাইকে রেশনের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, মানুষ আমাদের বাসায় ভাতের মাড়ের জন্য আসত।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শেখ হাসিনার শাসনামলের নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারা প্রধান বিচারপতিকে নির্যাতন করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। একজন প্রধান বিচারপতির যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বুঝতে কারোর কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা কতটুকু স্বাধীন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার লোকেরা বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম করা হয়েছে, এবং দুই হাজার মানুষ খুন হয়েছে।”

শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, “আমাদের কাজ হলো ১৫ বছরের ভয়াবহতা গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরা। আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাসে সেমিনার করব, এবং দেয়ালে দেয়ালে সেই অন্যায় অবিচার লিখে রাখব, যাতে বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচার এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা ফিরে আসতে না পারে।”

তিনি সমাপ্তি করেন, “যারা ভাবছেন বিপ্লব জুলাই-আগস্টের ২১ দিনেই শেষ, তারা ভুল ভাবছেন। ১৫ বছর ধরে লড়াই হয়েছে, এবং আরও ১৫ বছর লড়াই করতে হবে।”