নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রথমদিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় বাড়ছে। ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদরের বিভিন্ন কেন্দ্র, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম রয়েছে। তবে নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং একাধিক ভোটার কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদান শেষে আসমা বেগম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। এছাড়া পথে তাঁর কোনো ধরনের ভোগান্তি হয়নি।
অপর ভোটার আবুল হোসেন জানান, জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা।
অন্যদিকে বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রয়োগ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু। ভোটগ্রহণের কার্যক্রমে কোথাও কোনো অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়নি এবং তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী।
এদিকে নির্বাচনের আগের রাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোট ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতেই তাঁদের প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্সও পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
এই আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র অবস্থিত। এসব কেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা চারজন।











