রাশমিকা-বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা কেন? মুখ খুললেন সন্দীপ্তা সেন

অনলাইন ডেস্ক:

‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে জনপ্রিয় তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার রেশ ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মূলত বিজয়ের একটি মন্তব্যের পরই নেটিজেনদের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া ও মিম ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি জানান যে রাশমিকার বারবার প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার পরও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কিছুটা সময় নিয়েছিলেন। আর এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী ও সাইকোলজিস্ট সন্দীপ্তা সেন।

ম্যাটার অব এক্সপ্ল্যানেশন— এই তিনটি শব্দের সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত উল্লেখ করে সন্দীপ্তা বলেন, মানুষ কোনো কিছুর জন্য কারও কাছে জবাবদিহি করবে কি করবে না, তা পুরোটাই নির্ভর করে তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ওপর। সে পেশায় অভিনেতা হতে পারেন, আবার কোনো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তি বা চিকিৎসকও হতে পারেন। মনের কথা কে কীভাবে প্রকাশ করবেন, তা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এখন অনেক বিষয়ই দ্রুত প্রকাশ্যে চলে আসে। রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিষয়টিও ঠিক তেমনই। তাদের মন্তব্যের থেকেও বড় হয়ে প্রশ্ন উঠছে এই সেলেব-ডুয়োর অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদানকে কেন্দ্র করে।

তিনি আরও মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে আগে প্রেমের প্রস্তাব দেবেন কিংবা কে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেবেন, তা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে বাইরের মানুষের এতখানি আলোচনা করা কতটা প্রয়োজন, সেই প্রশ্নটিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

এ তারকা জুটির সম্মান ও ব্যক্তিত্বের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন সন্দীপ্তা। তার মতে, প্রত্যেক মানুষ নিজের অবস্থান ও অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। কেউ কোনো বিষয়ে জবাব দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে নীরব থাকতেই বেশি পছন্দ করার প্রবণতা দেখা যায়।

এ দুজনের যৌথ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মাঝে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কেন নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তাদের এতটা ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হলো? সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঠিক কতটা কথা বলা উচিত, আর কতটা ব্যক্তিগত পরিসরে রাখা বাঞ্ছনীয়? এমন নানা প্রশ্নই এখন নতুন করে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এ তারকা দম্পতিকে ঘিরে।

তাদের প্রেমের এই গল্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে রাশমিকা নাকি বিজয়কে ১০০ বার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অথচ সেই সম্পর্ককে বিয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সময় নিয়েছিলেন বিজয়— মূলত এমন মন্তব্য ঘিরেই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল।

এ তারকা দম্পতির দীর্ঘ এই পোস্টটি দেখার পর কারও কারও মনে এ ধারণা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক যে, নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি হয়তো কিছু বিষয় প্রমাণ করার তাগিদও তাদের মধ্যে কাজ করে থাকতে পারে। এছাড়া পরিবার থেকে শুরু করে ভক্ত-অনুরাগী— সবার কাছে নিজেদের সঠিক অবস্থানটা বোঝানোর চেষ্টা হয়তো ওই ব্যাখ্যার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।

সেলিব্রিটি সম্পর্ক নিয়ে যেকোনো ধরনের আলোচনার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো একটি ছবি, ভিডিও কিংবা সাক্ষাৎকারের গুটিকয়েক বাক্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। আর এর পরেই শুরু হয় নানা ধরনের ব্যাখ্যা, অনুমান ও কাটাছেঁড়া। কিন্তু পর্দার আড়ালে কোনো তারকা যুগলকে একসঙ্গে হাসিখুশি দেখালেই যে তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও সবকিছু নিখুঁত থাকবে— এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। একইভাবে, কোনো সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনো সমস্যা না থাকার অর্থ এই নয় যে, সেই সম্পর্কে ভেতরে ভেতরে কোনো জটিলতা নেই।

অন্যদিকে, বেশ ধুমধাম করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক সময় বিচ্ছেদের করুণ সুর বেজে উঠতে দেখা যায়। আবার এর উল্টো চিত্রও রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দরভাবে টিকে থাকে। অর্থাৎ, ওপরের দৃশ্য দেখে কোনো সম্পর্কের গভীরতা কিংবা তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা কখনোই সম্ভব নয়।

রাশমিকা ও বিজয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে চলে এসেছে। জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের মনে আগ্রহ থাকতেই পারে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আগ্রহ যেন কোনোভাবেই তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত কে কার সঙ্গে সম্পর্কে থাকবেন, কে কত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে জীবন কাটাবেন কিংবা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ঠিক কতটা কথা বলবেন— সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল সংশ্লিষ্ট ওই দুজন মানুষেরই রয়েছে। হাজারো অনুরাগী, মন্তব্য কিংবা সমালোচনার ভিড়ের বাইরেও তাদের একটি একান্ত নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। তাই রাশমিকা ও বিজয়ের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে বাইরের মানুষের অতিরিক্ত বিচার-বিশ্লেষণ না করে বরং তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে মনে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন।