কিশোরদের সহিংসতায় উসকানি না দিতে চ্যাটজিপিটিতে আসছে কঠোর বিধিনিষেধ

অনলাইন ডেস্ক:

সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেআইনি কাজের বিষয়ে পরামর্শ পেতে কিশোরদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের দ্বারস্থ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে কিশোরদের আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত যেকোনও প্রশ্নের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটিতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ যুক্ত করছে ওপেনএআই। গত ৩০ অক্টোবর ঘোষণা দেওয়া এই নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, কেনাবেচা বা ব্যবহারের বিষয়ে এমন ব্যবহারিক তথ্য দেওয়া সীমিত করা হবে, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহিংস কর্মকাণ্ডে কাজে লাগতে পারে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এত দিন চ্যাটজিপিটিতে কাউকে সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং কিশোরদের অস্ত্র খুঁজে পাওয়া বা সংগ্রহে সাহায্য করা নিষিদ্ধ থাকলেও, নতুন নিয়মে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এখন থেকে কিশোরদের আগ্নেয়াস্ত্র ও নিরাপত্তাব্যবস্থার এমন ব্যবহারিক তথ্য দেওয়া হবে না, যা সহিংসতামূলক কাজে অপব্যবহার করা সম্ভব, তবে সহিংসতা প্রতিরোধ, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শান্ত করা, সহায়তা চাওয়া কিংবা বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে পারবে তারা।

শুধু কিশোরদের জন্যই নয়, সব বয়সী ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেও সহিংসতাসংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর সীমিত করছে ওপেনএআই, যেখানে অতীতে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের হামলার ঘটনা, এতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম এবং সেগুলো সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও সীমিতভাবে দেবে চ্যাটজিপিটি। একইভাবে, হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এমন তুলনামূলক তথ্যও সীমিত করা হবে যা হামলাকারীকে অতিরিক্ত গুরুত্ব বা পরিচিতি দিতে পারে, তবে এসব ঘটনার সামাজিক প্রভাব, ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

কোনও ব্যবহারকারী কিশোর কি না, তা নির্ধারণে ওপেনএআইয়ের বয়স অনুমানব্যবস্থাও ভূমিকা রাখবে এবং ব্যবহারের ধরনসহ বিভিন্ন গতিবিধি বা সংকেত বিশ্লেষণ করে এই ব্যবস্থা বয়স সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে। কাউকে ভুল করে ১৮ বছরের কম বয়সী হিসেবে শনাক্ত করা হলে পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজের বয়স নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে এবং এ জন্য ওপেনএআইয়ের অংশীদার প্রতিষ্ঠান পার্সোনার সহায়তা নেওয়া হবে।

নতুন বিধিনিষেধের পাশাপাশি সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্তে আরও কিছু ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার অংশ হিসেবে কোনও কথোপকথনে একজন ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্যকে গুরুতরভাবে আঘাত করার বিষয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ বা সহিংসতায় স্থির মনোভাব দেখা গেলে চ্যাটজিপিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই চ্যাট বন্ধ করতে পারবে এবং একই কারণে একাধিকবার চ্যাট বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিতও করা হতে পারে।

এ ছাড়া সহিংসতা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা তুলে ধরতে ‘কমিউনিটি সেফটি রিপোর্ট’ প্রকাশ করবে ওপেনএআই, যেখানে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের কার্যক্রম নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এরপর প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।