ইসরাইলের নির্বাচনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ডানপন্থী সরকার গঠনের ওপর জোর দিলেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক:

ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ডানপন্থী সরকার গঠন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী কোনো আরব দলের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠন করা মোটেও সম্ভব নয়।

গত মঙ্গলবার পশ্চিম জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে এই বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এদিকে ৮৪ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর একটি সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা পৌঁছাতে পারে ৪৯টিতে। এর ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না বলেই জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অবশ্য নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করা উচিত। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী লিকুদ পার্টিই হতে যাচ্ছে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। দেশটির কয়েকটি চ্যানেলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লিকুদের আসনসংখ্যা ২৭ এবং আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা ২১টি হতে পারে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ২০২২ সালে নিজের বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের ফিরিস্তি তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জোরালো দাবি করেন যে, তার বর্তমান প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের খতম করার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার অভ্যন্তরে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা এবং ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহুর মতে, ইরান বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল এবং ইসরাইল আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়ার পরও সরকার গঠনের পথটি নেতানিয়াহুর জন্য বেশ কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে এবং জোটের সমীকরণ তার সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। সাবেক ইসরাইলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যেকোনো দলকে বেশ অস্বস্তিকর জোট আলোচনার টেবিলে বসতে হতে পারে। অথচ বিরোধী ভোটাররা কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে এই ধরনের কোনো সমঝোতা সহজে মেনে নিতে চাইবেন না।

অপরদিকে আরেক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারার মতে, নিজের ভাষণে নেতানিয়াহু মূলত তার দলের নির্বাচনী অবস্থানকেই একটি বড় সাফল্য হিসেবে জাহির করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন। তার মতে, লিকুদ দল সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২০০৯ সালের পর এটিই দলটির সবচেয়ে কম আসন পাওয়ার রেকর্ড—যা মূলত আড়াল করতেই এই ভাষণ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যান পেরির মূল্যায়ন অনুযায়ী, নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরই মূলত উদ্ভূত পুরো পরিস্থিতিকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ও পক্ষে ব্যাখ্যা করার জন্যই এই বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।