ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

আজাদ ময়দানে রণবীরের শুটিংয়ে বন্ধ ক্রিকেট ম্যাচ, ক্ষুব্ধ অ্যাসোসিয়েশন

প্রকাশিত: 7 November 2026, 9:25 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের আসন্ন সিনেমা ‘প্রলয়’-এর শুটিংয়ের কারণে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে একাধিক ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল ও পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বর্তমানে ক্রীড়া মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ক্যামেরার সামনে জম্বিদের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্য ধারণ করা হলেও, অন্যদিকে মাঠের বাইরে নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। আর এই পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো আপত্তি তুলেছে, তেমনই আবার পাল্টা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সিনেমাটির পরিচালক হানসাল মেহতাও।

‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দুর্দান্ত সাফল্যের পর বর্তমানে জম্বি ঘরানার সিনেমা ‘প্রলয়’ নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন রণবীর সিং। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন খ্যাতনামা নির্মাতা হানসাল মেহতা। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র সরকারের ক্রীড়া দপ্তরের কাছ থেকে আইনগত অনুমতি নিয়েই মূলত নির্মাতারা আজাদ ময়দানে ছয় ঘণ্টার জন্য এই শুটিংয়ের সার্বিক ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে ময়দানে এই শুটিংয়ের আয়োজন করতে গিয়েই মূলত বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে স্কুলপর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোতে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহল।

মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের দায়িত্বশীল সদস্য নাদিম মেমন এই পুরো ঘটনায় অত্যন্ত জোরালো ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ওই মাঠে বিশাল আকারের সেট নির্মাণের পাশাপাশি কৃত্রিম ঘাসও বিছানো হয়েছিল, যার ফলে ক্রিকেটারদের নিয়মিত অনুশীলন এবং পূর্বনির্ধারিত টুর্নামেন্ট আয়োজন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলতে গিয়ে নাদিম মেমন অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, আজাদ ময়দানে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কোনো সিনেমার শুটিং সম্পন্ন হলো। ‘প্রলয়’ সিনেমার শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে বিশাল সেট তৈরি করার পাশাপাশি কৃত্রিম ঘাস পর্যন্ত বিছানো হয়েছিল। কিন্তু এটি তো আদতে কোনো সিনেমার শুটিংয়ের নির্ধারিত জায়গা হতে পারে না, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ক্রিকেট মাঠ। যেখানে উদীয়মান খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের পৌঁছানোর স্বপ্ন বুনে কঠোর প্র্যাকটিস করেন এবং নিজেদের খেলার দক্ষতা বাড়িয়ে তোলেন। শুটিংয়ের এই কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের চলমান টুর্নামেন্টগুলো সরাসরি ব্যাহত হয়েছে এবং এই ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে? কোনো বাণিজ্যিক ছবির শুটিংয়ের অনুমতি প্রদান করে একটি পবিত্র ক্রিকেট মাঠকে এহেন উপায়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়।

শুধুমাত্র নির্ধারিত ম্যাচগুলো পিছিয়ে দেওয়াই নয়, এর পাশাপাশি ওই ঐতিহ্যবাহী মাঠটির সার্বিক ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাদিম। তার সুনির্দিষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া দপ্তরের এহেন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে আজাদ ময়দানের দীর্ঘদিনের লালিত ক্রীড়া সংস্কৃতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠটিকে খেলাধুলার জন্য নিয়মিত ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরিবর্তে ক্রমাগত বাণিজ্যিক শুটিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জোরালো অভিযোগ তুলেছেন।

নাদিম আরও বলেছেন যে, ক্রীড়া দপ্তরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের কারণে মূলত আজাদ ময়দানের সামগ্রিক ক্রীড়া সংস্কৃতি আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। খেলাধুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর পরিবর্তে এই দপ্তর মাঠটিকে সহজ উপায়ে কমার্শিয়াল বুকিংয়ের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে দিচ্ছে। তারা একদিকে যেমন তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের তৈরি করার কঠিন কাজটি করে চলেছেন, অন্যদিকে তেমনি একাধিক আন্তঃরাজ্য টুর্নামেন্টেরও সফল আয়োজন করে থাকেন। অথচ একটি বাণিজ্যিক ছবির শুটিংয়ের অজুহাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো পেছাতে বাধ্য করা হয়েছে। ক্রীড়া দপ্তর কীভাবে এত সহজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুমতি প্রদান করতে পারে?

ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলের তরফ থেকে এমন জোরালো অভিযোগ তোলার পর এবার জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন ‘প্রলয়’ সিনেমার পরিচালক হানসাল মেহতা। তার সুনির্দিষ্ট দাবি হলো, শুটিংয়ের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে আগেই সমস্ত অনুমতি সংগ্রহ করেছিলেন। এই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, শুটিং শুরুর আগেই তো প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।

শুধু তা-ই নয়, এর পাশাপাশি মুম্বাইয়ে বর্তমানে সিনেমার শুটিংয়ের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও নিজের তীব্র অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছেন এই পরিচালক। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই আজকের দিনে মুম্বাই শহরটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য প্রায় একটি নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হতে বসেছে। আর সমাজের এই সমস্ত মানুষেরা আগুনে আরও বেশি করে ঘি ঢালার কাজ করে চলেছেন।

এদিকে আজাদ ময়দানে সিনেমার শুটিংয়ের অনুমতি প্রদান করা এবং এর ফলে ক্রিকেট ম্যাচগুলো ব্যাহত হওয়ার সম্পূর্ণ দায় কার, তা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি জোরালো ও জটিল করে তুলেছে। তবে মাঠের এই বাণিজ্যিক ব্যবহার, ক্রীড়া দপ্তরের দেওয়া অনুমতি এবং টুর্নামেন্টগুলোর যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে, সেই পুরো বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের।

মন্তব্য করুন