মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা: ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউসের দৌড়ে আলোচনায় যারা
অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবি এবং ডেমোক্র্যাটদের দুর্দান্ত জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নানামুখী হিসাব-নিকাশ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরসূরি হওয়ার এই লড়াইয়ে দুই দলের অন্দরেই জোরেশোরে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা, যদিও এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। তবে এই দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিনেটর জন অসফ ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েতজন নেতার নাম বেশ জোরালোভাবেই উঠে এসেছে।
আসন্ন এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল সাফল্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি ও পরাজয় খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশ ভালো রকম চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে।
বিরোধী শিবির অর্থাৎ ডেমোক্র্যাট শিবিরে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে সামনের সারিতেই আলোচনায় রয়েছেন জর্জিয়ার জনপ্রিয় সিনেটর জন অসফ। বিশেষ করে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যে তিনি এক বিরাট ব্যবধানে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে এনেছেন। একই সঙ্গে, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও নিজ রাজ্যে বেশ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন; আর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দোদুল্যমান রাজ্যে তাঁর এই জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তাকেই জাতীয় পর্যায়ে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এছাড়া এই দৌড়ে আরও যাদের নাম বেশ জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এমনকি নিউইয়র্কের খ্যাতনামা প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো দলের প্রগতিশীল ও তরুণ নেতারাও শেষ পর্যন্ত দলের এই মনোনয়ন লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারেন।
তবে এত সম্ভাবনার মাঝেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে দলটির ভেতরের মধ্যপন্থী ও বামপন্থী বা প্রগতিশীল অংশের মধ্যে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা। সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির এই উভয় পক্ষই নিজেদের স্ব স্ব রাজনৈতিক কৌশলের মুন্সিয়ানা ও সাফল্য জোরালোভাবে দাবি করে আসছে। তাই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে চান দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবিরে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে এতদিন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন খোদ জেডি ভ্যান্স। কিন্তু দলের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর এখন তাঁর সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রার্থিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, চলমান ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নানা বিতর্কিত নীতির কারণে দেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এই নির্বাচনে দলটির ফলাফলে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এমন এক সংকটময় ও কঠিন পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সামনে দলের ভেতর নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করে এই নেতারা এখন নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও বেশি শক্তপোক্ত ও গ্রহণযোগ্য করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশের হিস্পানিক বা লাতিনো এবং বিভিন্ন দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সমর্থন দুই প্রধান দলের জন্যই অত্যন্ত নির্ণায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন শ্রমজীবী ও লাতিনো ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন হাতছাড়া হয়েছে রিপাবলিকানদের, যা দলটির জন্য বড় এক সতর্কবার্তা। এছাড়া কঠোর অভিবাসননীতি নিয়েও সাধারণ মানুষের মাঝে দলটির প্রতি এক ধরনের তীব্র অসন্তোষ ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
