চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সচেতনতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রোববার (৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা যাচাই ও চূড়ান্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাইখাওয়াত হোসেন বলেন, সারা দেশে মানুষের চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেবল চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয় বরং প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মশালাটিতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএনএম মঈনুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, চক্ষু রোগের ঝুঁকি কমাতে হলে শুধু চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবলে চলবে না; ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোকেও সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রত্যেককে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নিয়মিত যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে।
সরদার মো. সাইখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, শুধু সরকারের পক্ষে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এ জন্য সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখ ও কিডনির ক্ষতিসহ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, চোখের ছানির অস্ত্রোপচারও অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। তাই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের পাশাপাশি চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, চক্ষু ও কিডনি রোগ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ফলে এসব রোগকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে শুধু আলাদা আলাদা চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কার্যকর গ্রুপ বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যৌথভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি ও চোখের ক্ষতি কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ আগেভাগেই সচেতন হতে পারবে।
