অনলাইন ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মামলা করার অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি দেশটির পুলিশ। কুয়ালালামপুরের কাজাং থানায় বাংলাদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এরই মধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ওয়াংসা মাজুর পুলিশপ্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠায়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের কোনো থানায় বাংলাদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ এও নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ ওঠেনি।
এদিকে, খাস্তগীরের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সেবার জন্য বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ করেছেন। এর মধ্যে পাসপোর্ট সেবা সহজতর করা এবং শ্রমিকদের বৈধকরণের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ স্বার্থান্বেষী মহলকে ক্ষুব্ধ করেছে, ফলে তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
খাস্তগীরের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএসএ) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। তবে, খাস্তগীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, যে মেসেজের কথা বলা হচ্ছে তা তার নয়, বরং একজন সহকর্মীর ছিল।
এছাড়া, খাস্তগীর মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাসপোর্ট সেবা এবং নানা কনস্যুলার সেবা প্রদান নিয়ে অভিযোগের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘসূত্রতা, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগের তদন্তে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের সেবার ক্ষেত্রে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হাইকমিশন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে প্রতারক চক্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। খাস্তগীর বলেন, তিনি গুজব এবং অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন, এবং তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।











