‘পেয়ালা ক্যাফে’-তে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ম্যানেজার রিমন

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ‘পেয়ালা ক্যাফে’তে গত শনিবার রাতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিল, যা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ক্যাফেটির ম্যানেজার মো. মেহেদী হাসান রিমন (৩১) নিজেই আগুন লাগিয়েছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে জানা গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং এ ঘটনায় চুরি, অগ্নিসংযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রিমন, যিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত, ক্যাশ থেকে ৮৫ হাজার টাকা চুরি করে এবং তা জুয়া খেলতে খরচ করেন। এরপর, তার হেরে যাওয়া টাকার ক্ষতিপূরণ না পেয়ে, ‘পেয়ালা ক্যাফে’তে আগুন লাগানোর ঘটনা সাজান। তদন্তে জানা গেছে, আগুন লাগানোর জন্য রিমন ক্যাশ কাউন্টারের নিচে টিস্যু ও পত্রিকা দিয়ে আগুন ধরান, যা পরে ক্যাফে জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

গত শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ক্যাফেটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নির্বাপন করা হয়। প্রথমে আগুনের কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের হতে পারে এমন ধারণা করা হলেও তেজগাঁও থানা পুলিশ দ্রুতই বিষয়টিতে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে ক্যাফের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রিমনের নাম উঠে আসে।

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ্ বলেন, রিমন তার জুয়া খেলার খরচ মেটাতে এবং আগুনে আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ক্যাশের নিচে আগুন লাগান। তিনি আরো জানান, রিমন চুরি ও অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ী। এমজিএইচ গ্রুপ, যা ‘পেয়ালা ক্যাফে’র মালিক, তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলায় ৮৫ হাজার টাকা চুরি এবং আগুনে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ করা হয়।

এদিকে, এমজিএইচ গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার মো. শাহেদুর রহমান তানভীর জানান, রিমন ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে ক্যাফে ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। ঘটনার আগে ক্যাশ জমা না দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে, পরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রিমন তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। তেজগাঁও থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন জানান, রিমন যদি স্বীকারোক্তি না দেন, তবে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এছাড়া, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিমনের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। গত বছর নোয়াখালীর মাইজদীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যান।