Monday, October 5, 2026
30 C
Dhaka
Monday, October 5, 2026

ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে ২৮ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে রামমূর্তি নগরের কেলকেরে লেকের কাছ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া এই খবর প্রকাশ করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারী একটি অ্যাপার্টমেন্টে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তবে বাংলাদেশের কোন জেলায় ওই নারীর বাড়ি তার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই নারী বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন এবং তার স্বামীর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারা তিন সন্তানসহ গত ছয় বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার সময় তিনি সহকর্মীকে জানান, তার অন্য একটি কাজ রয়েছে, তাই ফিরে যেতে দেরি হবে। এরপর বাড়ি না ফেরায় তার স্বামী রামমূর্তি নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে পূর্ব বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) দেবরাজ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, “শুক্রবার সকালে ১১২ নম্বরে কল পেয়ে আমরা একটি পরিত্যক্ত স্থানে এক নারীর মরদেহ পাওয়ার তথ্য পাই। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি নৃশংস অপরাধ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।”

দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিৎসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেছেন। স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আপাতত বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৩টা) বেগম খালেদা জিয়াকে তারেক রহমান তার বাসায় নিয়ে যান। এর আগে, তারেক রহমান লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে তার প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসবে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে তাকে রিলিজ দেয়া হতে পারে। তবে, হাসপাতালে ছাড়পত্র পেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।

ডা. জাহিদ আরও জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কারণ তার বয়স একটি বিবেচ্য বিষয়। এছাড়া, তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর মধ্যে লিভার, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, প্রেশার এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো বেশ কিছু রোগ রয়েছে, যার জন্য ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চলমান থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনের ‘দ্য ক্লিনিক’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, এবং সেখানে তার ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবায়দা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত তাকে দেখাশোনা করতেন।

গত ৮ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান এবং সেদিনই তাকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রকাশ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে গুলি কর হত্যা

জেলা প্রতিনিধি :

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ণব কুমার সরকার নামে এক ছাত্রকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

রাতে সর্বশেষ খবর পার্ওয়া পর্যন্ত নিহত অর্ণবের লাশ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল।

নিহত অর্নব (২২) নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিতিশ কুমার সরকারের ছেলে। তিনি খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ আহসান হাবীব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানা গেছে, শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে একটি মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে অর্ণব চা পান করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে সশস্ত্র লোকজন এসে প্রথমে তাকে গুলি করে। গুলি তার গায়ে লাগার পর রাস্তার ওপর পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় অর্নবকে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত অর্ণবের লাশ খুমেক হাসপাতালে রয়েছে। শুনেছি তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তার শরীরের কোথায় গুলি ও কোপানো হয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। আমরা এখনও তাকে দেখতে পারিনি। কারা বা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা-ও প্রাথমিকভাবে বলা সম্ভব নয়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সবকিছুর খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, প্রভোস্ট অধ্যাপক শরিফ মোহাম্মদ খান এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত নিশ্চিত করেন যে অর্ণব খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. শাহ আলম বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থী ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি।’

কুয়াশার কারণে বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জের আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে কয়েক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর, শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে সকাল ৭টা ও ভোর ৬টার দিকে দুটি রুটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক নাসির চৌধুরী জানান, শুক্রবার রাতে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ অবস্থায় পাঁচটি ফেরি মাঝপথে আটকা পড়ে।

এছাড়া, ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটেও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে উভয় পাড়ে ১৪টি ফেরি আটকা পড়ে এবং ৪ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৫ শতাধিক যানবাহন আটকে যায়, যেটি যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার পর যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে কারওয়ান বাজারের রেলওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের রেলওয়ে এলাকাটি এখন মাদক ও ইয়াবার হটস্পট হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসায়ীরা দিন-রাত প্রকাশ্যে তাদের পণ্য বিক্রি করছে, যেন এটি একটি সুকৌশলে পরিচালিত হাট-বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক বিক্রেতারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ‘তামাক-বাবা’ লাগবে কি? বলে মাদক বিক্রির প্রস্তাব দেয়, যেখানে ‘তামাক’ মানে গাঁজা এবং ‘বাবা’ মানে ইয়াবা বড়ি।

এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বিক্রির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিল মনোভাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কার্যক্রমের কারণে অবাধে চলছে। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এখানকার মাদককারবারীরা প্রকাশ্যে ক্রেতাদের সাথে লেনদেন করছে, যেখানে গাঁজা ও ইয়াবার দাম একাধিকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব মাদক বিক্রেতা ‘ঝর্ণা’ নামের পরিচয়ে সংবাদদাতাকে জানান, ছোট প্যাকেট গাঁজার দাম ১০০ টাকা এবং ইয়াবা বড়ির দাম ৩০০ টাকা। একইভাবে, ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে হেরোইন বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। মাদক বিক্রেতারা দাবি করেন, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযান প্রায়ই আগাম সতর্কতার কারণে কার্যকর হয় না।

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে মাদক বিক্রির এই চক্রটি অব্যাহত রয়েছে, যদিও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়েছে। ২০১৮ সালে পুলিশ প্রায় এক হাজার সদস্য নিয়ে অভিযান চালালেও, গোপনীয়তার অভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এমনকি, ২০২৪ সালের শুরুতে র‌্যাবের অভিযানও সীমিত ফল দেয় এবং মাদক ব্যবসার শিকড় ভাঙতে সঠিক পদক্ষেপের অভাব দেখা গেছে।

এলাকার ব্যবসায়ী সালামত উল্লাহ জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার মূল সমস্যা হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, যা এই অবৈধ বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, কারওয়ান বাজারে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জরুরি।

এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার অধিদপ্তর কারওয়ান বাজারে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে, তবে শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসার মূল কারণ হলো চাহিদা, যা কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন জানান, গত ৩-৪ মাসে তারা ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন, তবে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে আরও বড় ধরনের অভিযান প্রয়োজন।

কারওয়ান বাজারের মাদক ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব অনুভব করছেন।

ড. ইউনূসের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউসশোয়াব-এর বৈঠক 

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ডব্লিউইএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠককালে, ড. ইউনূস বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সরকারকে জনগণের চাহিদা বোঝার পরেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। যদি জনগণ ছোট পরিসরের সংস্কার চায়, তাহলে নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে। তবে যদি দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের দাবি ওঠে, তাহলে তার জন্য সময় লাগবে।” তিনি এও বলেন, “এ বছরই যদি জনগণ দ্রুত সংস্কার চায়, তবে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত আছি।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিরসনের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা ঢাকার দেয়ালগুলোতে তাদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন প্রকাশ করেছে। তিনি এ সময় ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা যে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যত গড়তে চাইছে।”

তিনি জানান, নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি, যা তিনি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক মনে করেন। “বাংলাদেশে গত ১৬ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এখনও আসেনি,” বলেন ড. ইউনূস।

এই প্রজন্মকে “মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম” হিসেবে আখ্যায়িত করে, অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “তারা এখন শুধু বাংলাদেশি নয়, বরং বিশ্বের তরুণদের অংশ হয়ে উঠেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রজন্ম পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না, তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।

এছাড়া, ড. ইউনূস জানান, তরুণদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হচ্ছে, যাতে সকল রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। তিনি বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইতিবাচক গতি ফিরে আসার কথা জানান।

এ সময় ক্লাউস শোয়াব ড. ইউনূসের বক্তব্যে মুগ্ধ হন এবং আধাঘণ্টার আলাপচারিতায় সন্ত‌ুষ্টি প্রকাশ করেন।

মাছ-মুরগির দাম বেড়েছে, কমেছে আলু-পেঁয়াজের দাম

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ এবং মুরগির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহব্যাপী দেখা গেছে, সোনালি কক মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকা, তবে ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, নতুন আলু ও পেঁয়াজের দাম কমেছে এবং বাজারে সব ধরনের সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া এবং তালতলা বাজারে গতকাল শুক্রবার মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০০ গ্রাম ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকা, এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে; শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মুরগির বাজারে সোনালি কক মুরগি ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩২০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা এবং সাদা লেয়ার মুরগি ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এবং দেশি মুরগির দাম আগের মতো ৫২০ টাকা রয়েছে।

সবজির বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কারণে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শিম ১৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, মটরশুটি ৮০ টাকা, খিরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের ফুলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নতুন আলুর দাম কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, এবং পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার লাল আলু ৩৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, অন্যান্য মসলার দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্থিতিশীল রয়েছে; আদা ১২০ থেকে ২৮০ টাকা, রসুন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, মিনিকেট চাল ৭৮ থেকে ৮৬ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল ৭৬ থেকে ৮৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১,০০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৭৫ জন মারা গেছেন।

জলবায়ু সংকটে দেশের কোটি শিশুর শিক্ষা ব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক:

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ফলে শিশুরা তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘লার্নিং ইন্টারাপটেড: গ্লোবাল স্ন্যাপশট অব ক্লাইমেট-রিলেটেড স্কুল ডিসরাপশন ইন ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, ঝড়, বন্যা ও খরার কারণে ৭৭টি দেশে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শিশুদের পানি শূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা হয়। এর পরই মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রেমাল বাংলাদেশে আঘাত হানে, ফলে আবারও কিছু এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এরপর জুন মাসে ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এর মধ্যে ৭০ লাখই শিশু।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিলেট জেলা, যেখানে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিলেট অঞ্চলে জলবায়ুজনিত কারণে শিশুরা প্রায় আট সপ্তাহ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়। খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর অঞ্চলেও ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ছিল।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “আবহাওয়ার প্রকোপ এবং জলবায়ু সংকট শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যেও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকলে, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার বাড়ে, এবং পারিবারিক অসচ্ছলতা শিশুদের বিয়ের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।”

এছাড়া, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষায় স্কুল ও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং পরিকল্পনার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষায় জলবায়ুকেন্দ্রিক বিনিয়োগও কম। ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সরকারের কাছে শিশুদের প্রয়োজনীয়তার প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনিসেফের চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুরা জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

গাইবান্ধায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিরিন আক্তার (২৬) নামের ওই প্রসূতি মাকে সন্তান জন্মদানের জন্য বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিরিন আক্তার ফুলছড়ি উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের কছের সরদারের মেয়ে ও সবুজ মিয়ার স্ত্রী। ভর্তির পর তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় এবং একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু রাত ১১টার দিকে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর রাত ১২টার দিকে প্রসূতি মা শিরিন আক্তারেরও মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, শিরিন আক্তারের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকলেও তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে চিকিৎসকরা সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারেননি, যার ফলশ্রুতিতে নবজাতক এবং পরে মা মারা যান।

হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও গুরুতর হয়, যখন রাত ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমানসহ ১৫-২০ জনের একটি দল চাঁদা দাবি করতে গিয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করে। চাঁদা না পেয়ে তারা চিকিৎসক ও নার্সদের ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই পরিস্থিতিতে প্রসূতি মায়ের রক্তের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোরঞ্জন কুমার বর্মণ বলেছেন, তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশ পাহারা রাখা হয়েছে। তবে সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ডা. আব্দুল হাকিম দাবি করেছেন, সঠিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে এবং নবজাতকের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতাদের হামলা ও চাঁদাবাজির কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যান, যার ফলে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, শিরিন আক্তারের স্বজনরা হাসপাতালটি বন্ধ করার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর

পর্তুগালের ড্রেসিংরুম নিয়ে যা বললেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ

0
অনলাইন ডেস্ক: পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে গেছেন, এই খবর নতুন নয়। দলের ড্রেসিংরুমে একের পর এক নাটক নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয় দলে তার...